ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় কি?
Spread the love

প্রতিবছর সাইবার অ্যাটাকের কারনে অনলাইন সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার হাজার ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হসপিটাল, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবকিছু সাইবার অ্যাটাকের দ্বারা আক্রান্ত হয়। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে হ্যাকারদের পদ্ধতি তত পরিবর্তন হচ্ছে। নিত্ত নতুন উপায়ে প্রতিনিয়ত তারা সাইবার হামলা করেই যাচ্ছে। সিকিউরিটি এক্সপার্টদের মতে সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা এবং সিকিউরিটিগত দূর্বলতার কারনে এধরণের কার্যক্রম ঘটে যাচ্ছে। বিশেষ করে র‍্যানসমওয়্যার গোত্রের ম্যালওয়্যার অ্যাটাকের মত ঘটনা মানুষকে আরও ভীত করে তুলছে। আমাদের আজকের লেখায় আমরা জানবো ম্যালওয়ার অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায় গুলো সম্পর্কে। এতে অনলাইনে সহজেই হ্যাকারদের হাত থেকে নিজেদের সার্ভিস এবং ইন্টারনেট এক্সপেরিয়েন্সকে সুরক্ষিত রাখতে পারবো।  

ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে বাঁচার উপায়

আমরা অনেকগুলো উপায়ে ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারি। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

ম্যালওয়্যার গুলো সম্পর্কে ধারণা

ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকতে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে। তা না হলে সে গুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যাবে না। এতে ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে রক্ষা পেতে অনেক কষ্ট করতে হবে। অন্যদিকে যদি এগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখা যায় তাহলে সহজেই সচেতন হওয়া সম্ভব। বর্তমানে অনেকগুলো ম্যালওয়্যার বিশ্বব্যাপী প্রচলিত আছে। তাদেরকে কয়েকটি বিশেষ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ভাগ গুলো হলো-

  • র‍্যানসমওয়্যার
  • ট্রোজান
  • ওয়রম
  • স্পাইওয়্যার
  • অ্যাডওয়্যার
  • পর্ণওয়্যার
  • রিস্কওয়্যার
  • ভাইরাস
  • ফাইললেস ম্যালওয়্যার
  • গ্রেওয়্যার
  • রুটকিটস
  • ব্রাউজার হাইজ্যাকার
  • বটনেট
  • ক্রাইমওয়্যার
  • র‍্যাম স্ক্রাপার
  • ক্রিপ্টোজ্যাকিং
  • হাইব্রিড ম্যালওয়্যার

নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এসকল ম্যালওয়্যার সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এতে তাদের ইনফেকশন থেকে নিজেকে সহজেই মুক্ত রাখা যাবে।

আপডেট সিস্টেম ইউজ 

ওল্ড সিস্টেমে অনেক ধরনের সিকিউরিটি দূর্বলতা থাকে। কারন সিস্টেম গুলো যে সময়ের প্রযুক্তি এবং হার্ডওয়্যার দিয়ে তৈরি হয় তা আপডেট হয়ে গেলে তাতে অনেক দূর্বলতা পাওয়া যায়। একজন হ্যাকার এই দূর্বলতা সহজেই বিভিন্ন এক্সপ্লইট ইউজ করে খুঁজে বের করতে পারে। প্রতিটি সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি নিয়মিত বিরতিতে নতুন সিস্টেম আপডেট রিলিজ করে থাকে। উক্ত রিলিজ গুলোতে বিভিন্ন রকম বাগ ফিক্স এর সাথে সিকিউরিটি প্যাঁচ থাকে। সিস্টেম আপডেট করে নিলে বাগ গুলো যেমন রিমুভ হয় তেমনি সিকিউরিটি দূর্বলতা দূর হয়ে যায়। তখন হ্যাকার আর সেই সিস্টেমের অ্যাক্সেস নিতে পারে না। তাই প্রতিনিয়ত আপডেট ইন্সটল করা উচিত।

ফায়ারওয়াল

ফায়ারওয়াল এমন একটি সিস্টেম যা দিয়ে নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক আসা যাওয়া করে। অর্থাৎ আপনি ফায়ারওয়াল ইউজ করে আপনার নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক অনেকটুকু কন্ট্রোল করতে পারবেন। এটি প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এবং পাব্লিক নেটওয়ার্কের মধ্যকার সিকিউরিটি দেয়াল।

কিভাবে হ্যাক করা হয়?

ফায়ারওয়াল একটি নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি সিস্টেম। যা পাব্লিক নেটওয়ার্ক থেকে আসা ট্র্যাফিক মনিটর ও ফিল্টার করে প্রাইভেট নেটওয়ার্কে পাঠায়। ফায়ারওয়ালে যত শক্তিশালী সিকিউরিটি পলিছি অ্যাড করা থাকবে তা তত ভালো রেজাল্ট দেবে। বিশেষ করে ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে সুরক্ষা দিতে একটি ভালো মানের ফায়ারওয়াল অনেক ভালো কাজ করে। অতএব, আপনার অপারেটিং সিস্টেম যেটাই হোকনা কেন ভালো ফায়ারওয়ালের কোন বিকল্প নেই। আপনি চাইলে ডিফল্ট ফায়ারওয়াল ইউজ করতে পারেন বা অন্য কোন সার্ভিস হোল্ডারের থেকে সার্ভিস নিতে পারেন।

এন্টিভাইরাস

এন্টিভাইরাস একটি ভাইরাস টার্মিনেটর প্রোগ্রাম। অপারেটিং সিস্টেমকে ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ইউজ করা হয়। মূলত প্রতিটি এন্টিভাইরাসে সব ধরনের ম্যালওয়্যারের সিগনেচার ডাটাবেসে অ্যাড করা থাকে। যখন সিস্টেমে কোন ফাইল ডাউনলোড করা হয় তখন তা সেই ফাইলের ডাটা স্ক্যান করে ডাটাবেসে থাকা সিগনেচার গুলোর সাথে মিলিয়ে দেখে। যদি মিল পায় তখন তাকে ভাইরাস হিসেবে ডিটেক্ট করে ওয়ার্নিং সহ ডিলিট করে দেয়। এন্টিভাইরাস কম্পিউটারে ইন্সটল থাকলে তা সিস্টেমের যাবতীয় সুরক্ষা সহ ইন্টারনেট থেকে আসা সকল ডাটা মনিটর করে ভাইরাস ডিটেক্ট করে। এন্টিভাইরাস গুলো ম্যালওয়্যার ডিটেক্ট করতে অনেক পারদর্শী। মোটকথা ম্যালওয়্যার থেকে বাঁচতে এন্টিভাইরাস অনেক ভালো এবং কার্যকরী মাধ্যম।

নিয়মিত সিস্টেম পর্যবেক্ষণ

নিয়মিত সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করলে সন্দেহ করার মত কিছু থাকলে তা খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও বিষয়টি অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং সাধারন ইউজারদের জন্য অনেক কঠিন বিষয়। তবে অ্যাডভান্স ইউজারদের জন্য এই পদ্ধতিতে নিজেকে ম্যালওয়্যার মুক্ত রাখা অনেক হেল্পফুল। যাইহোক, সাধারন ইউজার এই কাজ বিভিন্ন সফটওয়্যার ইউজ করে করতে পারে। যেমন এন্টিভাইরাস ইউজ করেই নিয়মিত সিস্টেম মনিটর করা যায়। এছাড়া রিলেটেড অনেক প্রোগ্রাম আছে যারা সিস্টেম মনিটর করে রিপোর্ট জেনারেট করে ভাইরাস মুক্ত থাকতে সহায়তা করে।

অপরিচিত ইমেইল 

ম্যালওয়্যার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সব থেকে বেশি ঘটে অপরিচিত মেইলে আসা অ্যাটাচমেন্ট থেকে। আমরা যখন আমাদের ইমেইল চেক করি তখন প্রায় অনেক অপরিচিত মেইল দেখতে পাই। মেইল বডি এমন ভাবে সাজানো থাকে আমরা প্রলোভনে পরে মেইলের সাথে থাকা আট্যাচমেন্ট ডাউনলোড করে ফেলি। কিছু কিছু ম্যালওয়্যার আছে যা ডাউনলোড দেওয়ার সাথে সাথে এক্সিকিউট হয়ে যায়। এতে শুধু উক্ত ফাইল ডাউনলোড করার কারনে আপনার সিস্টেম ম্যালওয়্যার ইঞ্জেক্টেড হয়ে যাবে। সুতরাং কখনই অপরিচিত মেইল থেকে অ্যাটাচমেন্ট ডাউনলোড করবেন না।

অ্যাডাল্ট সাইট

অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইট গুলো ম্যালওয়্যার দিয়ে ভর্তি থাকে। এমন অনেক অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইট আছে যেখানে প্রতিটি জায়গায় ম্যালওয়্যার সেটআপ করা আছে। আপনি কোন কারনে ওয়েবসাইটের কোন বাটুন বা লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথে ফাইল ডাউনলোড হয়ে আপনার সিস্টেম হ্যাক করে ফেলবে। তাই অ্যাডাল্ট সাইট ভিজিট করার আগে চিন্তা করে নেবেন। না হলে হ্যাক হয়ে পার্সোনাল ডাটা নিয়ে সমস্যায় পরতে পারেন।

ক্র্যাক ফাইল

বর্তমান সময়ের সেরা হ্যাকিং টুলস

ক্র্যাক ফাইল ইউজ করা যেমন অবৈধ তেমনি বিপদজনক। ক্র্যাক ফাইল তৈরি করা হয় বিভিন্ন খারাপ কোড বা প্রোগ্রাম ইউজ করে। যে ফাইল বা প্রোগ্রামের আড়ালে ম্যালওয়্যার লুকিয়ে থাকে। আপনার সিস্টেমে এন্টিভাইরাস ইউজ করলে ক্র্যাক ফাইল ডাউনলোড করার সাথে সাথে তা ডিলিট করে দেবে। অনেক ম্যালওয়্যার এন্টিভাইরাস বাইপাস করতে পারে। অতএব শুধু এন্টিভাইরাস ইউজ করার একমাত্র ভরসা না। নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে ক্র্যাক ফাইল ইউজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

আনট্রাস্টেড পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড

হ্যাকাররা পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ডের ভেতরে অটোরান হিসেবে ম্যালওয়্যার ইন্সটল করে তা রাস্তায় বা শপিং মলে ফেলে রেখে দেয়। বিশেষ করে পাব্লিক প্লেসগুলো যেখানে অনেক মানুষ থাকে সে সকল স্থানে তারা এমন স্টোরেজ ডিভাইস ফেলে রাখে। যেগুলো কম্পিউটারে লাগানোর সাথে সাথে হ্যাক হয়ে যাবে। আপনি টের পাওয়ার আগেই দেখবেন আপনার পার্সোনাল ফাইল অনলাইনে। অতএব কোথাও কুঁড়িয়ে পাওয়া পেনড্রাইভ পেলে তা মূল সিস্টেমে না লাগিয়ে সাপোর্টিভ ডিভাইসে লাগিয়ে চেক করে নেবেন।

লিনাক্স

লিনাক্স একটি সিকিউরিটি প্রধান ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। এটি ওপেন সোর্স হওয়ার কারনে সব সময় আপটুডেট থাকে। যদি কোন ভাইরাস লিনাক্সকে টার্গেট করে তৈরিও করা হয় তাহলে রিলিজ হওয়ার সাথে সাথে অন্য কেউ তার সিকিউরিটি প্যাঁচ রিলিজ করে দেয়। এই কারনে এখন পর্যন্ত কোন লিনাক্স সিস্টেম হ্যাক হওয়ার রিপোর্ট পাওয়া যায়না। অতএব ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা পেতে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ইউজ করা যেতে পারে।

 উপরের আলোচনায় কীভাবে ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে সুরক্ষিত থাকা যাবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশাকরি লেখাটি পড়ে আপনি আপনার সিস্টেম এবং ইন্টারনেট ইউজ করার অভিজ্ঞতাকে আরও স্মুথ এবং সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। আপনার যে কোন মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ। 

By Rezaul Islam Tasin

আমি রেজাউল ইসলাম তাসিন, ২০১৪ থেকে আইটি প্রফেশনের সাথে জড়িত আছি। বই পড়া এবং আইটি নিয়ে ঘাটাঘাটি করা আমার নেশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!