ডিপ্রেশন- আইটি কথা
Spread the love

ডিপ্রেশন কাটানোর উপায়

আমাদের জীবনের সাথে ডিপ্রেশন নামক শব্দটা খুব পরিচিত হয়ে গেছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমরা সব কিছুই তো করছি, কিন্তু মনের যত্ন নেয়া ভুলে গেছি। কর্ম ব্যাস্তময় এই জীবনে আমরা ভুলেই গেছি মন বলে একটা জিনিস আছে, যার যত্ন নেওয়া না হলে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। 

খুব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আমাদের সমাজে শারীরিক অসুস্থতাকেই শুধু রোগ বলে ধরে নেওয়া হয় কিন্তু ডিপ্রেশন বা মনের অসুস্থতা কে তেমন গুরুত্বের সাথে দেখা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কেউ যদি নিজের ডিপ্রেশনের কথা কারো সাথে শেয়ার করে, যার সাথে শেয়ার করা হচ্ছে সে খুব গুরুত্বের সাথে নেয় না। ভুক্তভোগীর শেয়ার করা কথাগুলো  তাঁরা কেউ বা হাসি,তামাশা করে উড়িয়ে দেয়, আবার কেউ বলে এটা কিছুই না আমরাও এসব সমস্যা ফেস করে আসছি অথবা উল্টা নিজের জীবনের কথা বলতে থাকে। 

যার ফলে ডিপ্রেশনে ভোগা ব্যাক্তিটি একটা সময় গিয়ে আর কারো সাথে নিজের সমস্যার কথাগুলো আলোচনা করে না। নিজের ভেতরেই সব কথা চাপা দিয়ে রাখে এবং এই অভ্যাসের কারণে ডিপ্রেশন দিন দিন আরো বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ডিপ্রেশনে ভুগলে এর পরিণাম খুবই ভয়াভয় হয়। 

ডিপ্রেশনের কয়েকটা ধাপ আছে, দিন যত যায় এই ধাপগুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকে, একদম শেষ ধাপে গিয়ে ডিপ্রেশনের সাথে আর যুদ্ধ করতে না পেরে আত্নহত্যার পথ বেঁছে নেয়া হয়। 

আমাদের অনেকের ধারণা ডিপ্রেশন শুধু আর্থিক সমস্যার জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু এই ধারণা ভুল। একটা অনুসন্ধানের রিপোর্টে দেখা গেছে বর্তমান বিশ্বের ৪৫ শতাংশ মানুষ ডিপ্রেশনের শিকার এবং এর মধ্যে ধনী ব্যাক্তিদের সংখ্যাই অধিকাংশ। একটা উদাহরণ দেখা যাক: কিছুদিন আগে বলিউডের একজন নাম করা সুপাস্টার (শুশান্ত সিং রাজপুত) ডিপ্রেশনের স্বিকার হয়ে আত্নহত্যা করেছেন, এখন একটু বুঝে দেখুন তাঁর কি আর্থিক সমস্যা ছিলো? 

ফেসবুক আইডি হ্যাক থেকে বাঁচানোর উপায় জানতে এখানে ক্লিক করুন

ডিপ্রেশন শুধু আর্থিক সমস্যার জন্যই সৃষ্টি হয়না, নানা কারণে ডিপ্রেশনের জন্ম হতে পারে, যেমন: রেজাল্ট খারাপ হওয়া, অতিরিক্ত দুশিন্তা করা, অর্থ-সম্পদ হারানোর ভয়, প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারা, কাছের মানুষের মৃত্যু, প্রিয় মানুষগুলো সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়া এইরকম নানা কারণে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত হবার উপায় খুব কঠিন কিছু না, সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে খুব সহজেই ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করে ডিপ্রেশনের সাথে যুদ্ধে জয়ী হতে পারি।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত হবার উপায়:

✅ প্রথমত নিজের মনকে শক্ত করতে হবে। নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, যত যাই হোক, যতই কষ্টসাধ্য হোক না কেন আমি ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে আসবোই,আমি আবার সুস্থ জীবনে ফিরে যাবো, আমি ডিপ্রেশনের সাথে যুদ্ধ করে ডিপ্রেশন কে পরিজিত করবোই। যতক্ষণ না আপনি আপনার মন থেকে না চাইবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে যতই চিকিৎসা করা হোক, যতই পদ্ধতি অবলম্বন করানো হোক না কেন ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। তাই সর্বপ্রথম আপনার মনোবল শক্ত করতে হবে।

✅ প্রতিদিন ভোরে সূর্য ওঠার আগে ঘুম থেকে উঠতে হবে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তাঁরপর কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট বাইরে দৌড়াবেন বা হাঁটাহাটি করবেন, দৌড়ানোর পাশাপাশি কানে হেডফোন দিয়ে মোটিভেশনাল স্পিচ বা যারা ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত হয়ে এসেছে তাঁদের বক্তব্য গুলো শুনতে পারেন অথবা টেড টল্ক শুনতে পারেন। যত বেশি দৌড়াবেন বা ব্যায়াম করবেন তত বেশি শরীর ক্লান্ত হবে, এর ফলে রাতে বিছানায় শুয়ে পড়ার সাথে সাথে ঘুম চলে আসবে এবং শরীরে প্রেশার পড়ার কারণে একটা অন্য রকম অনুুভূতি তৈরি হবে এতে করে ডিপ্রেশন কমে যাবে।

✅ ট্রাভেলিং করুন, আপনার পছন্দের জায়গায় ঘুরতে যান, অথবা অপরিচিত নতুন কোন জায়গায় গিয়ে বেড়িয়ে আসুন। ভ্রমণের ফলে মনের ভেতর অন্যরকম একটা অনুভূতি সৃষ্টি হবে।

✅ যে মানুষগুলো কে আপনার ভালো লাগে, যাদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করেন, তাঁদের সাথে বেশি বেশি মিশুন, আনন্দ করুন।

✅ সৃষ্টকর্তার অপরূপ সৌন্দর্যের কাছে যান, প্রাকৃতিকে কাছে থেকে দেখুন, সকাল বেলার মুক্ত তাজা বাতাস শরীরে লাগান, মন ভরে শ্বাস নিন, বিশ্বাস করুন প্রাকৃতিকে ভালোবাসতে শুরু করলে, প্রাকৃতি আপনাকে শূন্য হাতে ফেরাবে না।

✅ যারা সবসময় আপনার সমালোচনা করে, তাঁদের থেকে দূরে থাকুন। (সুশান্ত পাল) এর একটা জনপ্রিয় কথা আছে, যারা আপনার ভালো কাজে প্রশংসা করে না, তাঁরা আপনার মন্দ কাজে সমালোচনা করার যোগ্যতা রাখে না। তাই অন্যকে নিজের সমালোচনা করতে দিবেন না এবং নিজের মাথায় কখনো ভুলেও নেগেটিভ চিন্তা-ভাবনা আনবেন না।

১৬ থেকে ২১ বছর বয়সে কি করা উচিত? জানতে এখানে ক্লিক করুন

✅ প্রত্যেকটা মানুষেরই কিছু না কিছু পছন্দের কাজ থাকে, আপনার পছন্দের কাজগুলো মন দিয়ে করতে থাকুন, কে কি বললো তা পরোয়া করবেন না, আপনার মতো আপনি কাজ চালিয়ে যান, কাজ শেষে একদম দেখা হবে বিজয়ে। যদি আপনার পছন্দের কাজ কি তা ইতিমধ্যে না জেনে থাকেন তবে, প্রতিনিয়ত নতুন কিছু চেষ্টা করে দেখুন, মন দিয়ে খুঁজতে থাকুন একদিন না একদিন পেয়েই যাবেন।

✅যে মানুষ গুলো আপনাকে ভালবাসে, যারা আপনার অতি প্রিয়, সব রকম পরিস্থিতে পাশে থাকে তাঁদের সাথে বেশি সময় ব্যায় করুন। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দিন, নিজের সব টুকু উজার করে দিয়ে তাঁদের ভালোবাসুন।

✅ লেখালেখি করুন, খুব ভালো হয় একটা ডায়েরি লেখা শুরু করুন। নিজের প্রতিদিনের কাজ-কর্মকে ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করে রাখতে পারেন। এতে করে ভবিষ্যতের জন্য কিছু স্মৃতি জমা হবে এবং লেখার সময় আপনি কিছুটা হলেও ডিপ্রেশন থেকে দূরে থাকবেন।

✅ স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়িয়ে তুলুন। নিজের যত্ন নেয়া শিখুন। মনে রাখবেন এই শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গ মহান সৃষ্টিকর্তার দান, অবেহায় তা নষ্ট হতে দিবেন না।

✅ সামাজিক কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলুন। বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করতে পারেন অথবা তা না পাড়লে নিজের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব মানুষকে সাহায্য করুন। মানুষকে সাহায্য করার মধ্যে অন্য রকম এক আনন্দ আছে, যা একবার আপনি পেয়ে গেলে নেশায় পরিণিত হবে।

✅ রাতে অনিদ্রা সমস্যা থাকলে কোন মতেই দিনের বেলা ঘুমাবেন না, হ্যাঁ হয়তো প্রথম কয়দিন কষ্ট হবে কিন্তু একসময় অভ্যাসে পরিণত হবে। দিনের বেলা বেশি পরিশ্রম করে শরীর ক্লান্ত করুন এতে করে বিছানায় যাবা মাত্র ঘুম চলে আসবে। বিছানায় গিয়ে শরীর একদম ছেড়ে দিয়ে শুয়ে পড়বেন, খোলা-মেলা আরাম দায়ক পোশাক পড়বেন এবং কোন মতেই মাথাই কোন চিন্তা-ভাবনা আনবেন না। মাথায় কোন কিছু না এনে, পুরো শরীর ছেড়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকুন যতক্ষণ না ঘুম আসবে, এভাবে কিছুদিন করলেই অভ্যসে পরিণত হবে।

✅ আপনি জীবনে যেই অবস্থানে পৌছাতে চান, সেখানে যারা ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে তাঁদের অনুসরণ করুন। তাঁদের সাথে কথা বলুন এবং তাঁদের মধ্যে থেকেই যাকে বেশি ভালো লাগে তাঁকে নিজের মেন্টর বানাতে পারেন। তাঁর থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

✅ ডিপ্রেশনের মাত্রা বেড়ে গেলে দেড়ি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, মনে রাখবেন নিজের ভেতরে রোগ পুশে রেখে কখনো মুক্তি পাবেন না, তাই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিন।

✅সবশেষে বলতে চাই, নতুন কিছুকে আমন্ত্রণ জানান। সৃষ্টিকর্তা যা করে আমাদের ভালোর জন্যই করে। আপনি হয়তো একভাবে প্ল্যান করে রেখেছেন কিন্তু সেই প্ল্যান আপনার জন্য খারাপ তাই সৃষ্টিকর্তা আপনার প্ল্যান ভেঙ্গে দিয়েছে, যার কারণে হয়তো বা আপনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আপনার থেকে ভালো জানেন কি করলে আপনার ভালো হবে, এ কারণেই আপনার প্ল্যান কে ভেস্তে দিয়েছে। যে সৃষ্টকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখে তাঁর জন্য দ্বিতীয় কাউকে লাগে না, তাই সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখুন, ভরসা রাখুন । 

✅ মনে রাখবেন সব সমস্যার সমাধান আছে, শুধু সমাধান খুঁজে বের করে নিতে হয়, সমাধান টা নির্ভর করবে আপনি কতটুকু চেষ্টা করেছেন, কত ভাবে সমাধান খুঁজেছেন তাঁর ওপর। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে এমন ভাবে তৈরি করেছেন যাতে, যে কোন সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে, তাই সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন সমাধান আছেই। 

✅ কোন সমস্যায় সমস্যা না। ব্যাপারটা নির্ভর করে আপনি সমাধানের জন্য কতটুকো চেষ্টা করেছেন। চেষ্টার কাছে সমস্যা অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয় মাত্র। ইতিহাস কথা বলবে, দুনিয়ার সকল সফল ব্যাক্তিয়, তাদের আপন চেষ্টায় নানাবিধ সমস্যা সমাধান করে আজ সফলতার উচ্চ শিখরে পা রেখেছে।কষ্ট ছাড়া যেটা এমনি আমনি মিলে যাই সেটা কখনওই চীরস্থায়ী হয় না। কষ্ট করে যেটা সাধন করা হয় সেটার ফল অত্যন্ত সুমধুর এবং চিরস্থায়ী হয়।

✅ নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, নিজ ধর্মে মনোযোগী হোন, আপনার সব সমস্যার সমাধান আপনার ধর্মে রয়েছে। প্রতিটা নতুন সকাল আপনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সুযোগ নিয়ে আসে, সেই সময়কে কাজে লাগান। স্টিভ জবর্সের উক্তিটা দিয়ে শেষ করতে চাই: (কখনো কখনো জীবন তোমাকে ইট-পাটকেল মারবে, কিন্তু বিশ্বাস হারিয়ো না।) হ্যাঁ কখনোই বিশ্বাস হারাবেন না, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, আপনার জন্য রইল শুভ কামনা, দেখা হবে বিজয়ে।

By Rezaul Islam Tasin

আমি রেজাউল। পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার - ডিজিটাল মার্কেটার এবং পার্ট টাইম স্টুডেন্ট । গত ছয় বছর ধরে অনলাইনে কাজ করছি । বই পড়া এবং আইটি নিয়ে ঘাটাঘাটি করা আমার নেশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!