কল্পনা করুন, আপনি একটি সোনার খনির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু সেই খনির অস্তিত্ব কেবল আপনিই জানেন। কী করবেন? জানিয়ে দেবেন সবাইকে? নাকি সোনা লুকিয়ে রাখবেন? ঠিক এই ভাবেই ইন্টারনেটের বিশাল দুনিয়ায় একটি ওয়েবসাইট লুকিয়ে থাকতে পারে যদি এটি যথাযথভাবে অপ্টিমাইজড না হয়। এখানে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO) এসে জাদুর মত কাজ করে।
এসইও কেবল একটি টেকনিক নয়; এটি আপনার ডিজিটাল দুনিয়ায় বেঁচে থাকার প্রাণ। ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বাড়ানো, কনটেন্টকে সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছানো এবং গুগলের প্রথম পেজে জায়গা পাওয়ার জন্য এসইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন? SEO এর উদ্দেশ্য কী? কীভাবে এটি আপনার ব্যবসা বা ব্লগকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে? এ নিয়ে যদি বিস্তারিত জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে আজকের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি শুধুই আপনার জন্য।
এই আর্টিকেলে আমরা জানব “SEO এর উদ্দেশ্য” কী এবং এটি কেবল ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করার মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
Table of Contents
SEO কী এবং এর গুরুত্ব
SEO বা “Search Engine Optimization” হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইট বা কন্টেন্টকে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলের শীর্ষে নিয়ে আসা হয়। সহজ ভাষায়, এটি এমন কিছু কৌশলের সমন্বয় যা একটি ওয়েবসাইটকে আরও দৃশ্যমান এবং জনপ্রিয় করে তোলে। যখন কেউ গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনে নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্যাংশ অনুসন্ধান করে, তখন SEO সাহায্য করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটকে সেই ফলাফলের প্রথম দিকে দেখাতে। এটি মূলত কী-ওয়ার্ড ব্যবহার, কন্টেন্টের মান উন্নয়ন, লিংক বিল্ডিং, ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে, SEO এর উদ্দেশ্য হলো ওয়েবসাইটে বেশি ট্র্যাফিক নিয়ে আসা, ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করা।
SEO এর গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক, কারণ এটি শুধু ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক বাড়ায় না বরং সঠিক দর্শকদের কাছে সঠিক কন্টেন্ট পৌঁছে দেয়। বর্তমানে অনলাইনে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। এক্ষেত্রে, SEO এর উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট কী-ওয়ার্ড অনুসারে কন্টেন্টকে অপটিমাইজ করে টার্গেট দর্শকদের আকর্ষণ করা। উদাহরণস্বরূপ, একটি ই-কমার্স সাইটে SEO ব্যবহার করলে পণ্য বা সেবার ওপর আগ্রহী ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করা যায়। তাছাড়া, এটি ওয়েবসাইটের অর্গানিক ট্র্যাফিক বাড়ানোর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের খরচ সাশ্রয় করে। এর মাধ্যমে ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় ব্র্যান্ড পর্যন্ত সবাই তাদের উপস্থিতি দৃঢ় করতে পারে। সার্চ ইঞ্জিনের ক্রমাগত আপডেট হওয়া অ্যালগরিদম অনুসরণ করে SEO এর উদ্দেশ্য পূরণ করতে সঠিক পদ্ধতি এবং সময়োপযোগী কৌশল প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।
SEO এর উদ্দেশ্য
ওয়েবসাইটের ভিজিবিলিটি বৃদ্ধি
SEO এর উদ্দেশ্য হলো একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে সহজে খুঁজে পাওয়ার মতো করে তৈরি করা। ইন্টারনেটে প্রতিদিন লাখো কন্টেন্ট আপলোড হয়, এবং এর মধ্যে থেকে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটকে ব্যবহারকারীদের নজরে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কৌশলে কী-ওয়ার্ড অপটিমাইজেশন, মেটা ট্যাগ, এবং সার্চ ইঞ্জিনের অ্যালগরিদম অনুযায়ী কন্টেন্ট প্রস্তুত করা ওয়েবসাইটের ভিজিবিলিটি বাড়ায়। ভিজিবিলিটি বৃদ্ধির ফলে ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটটি সহজেই দেখতে পায়, যা ব্র্যান্ডের সাফল্যের পথে বড় ভূমিকা পালন করে। SEO এর উদ্দেশ্য কেবলমাত্র সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে ওয়েবসাইটকে প্রদর্শন করাই নয়, বরং এমন পদ্ধতিতে প্রদর্শন করা যাতে এটি প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে থাকে।
অনলাইন ভিজিবিলিটির অভাব হলে যেকোনো ব্যবসা বা ব্লগ জনপ্রিয়তার জায়গায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ই-কমার্স সাইট যদি সঠিক পদ্ধতিতে SEO প্রয়োগ না করে, তাহলে তার পণ্য বা পরিষেবা সহজে ক্রেতার সামনে আসবে না। SEO এর উদ্দেশ্য হলো এমন একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পৃষ্ঠায় জায়গা করে দিতে সাহায্য করে। প্রথম পৃষ্ঠায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা মানে কেবল ভিজিটরের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের দিকে ধাবিত হওয়া।
অর্গানিক ট্রাফিক অর্জন
SEO এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি করা। অর্গানিক ট্রাফিক বলতে বোঝায় এমন ব্যবহারকারীদের ভিজিট, যারা সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে কোনো প্রকার পেইড প্রচারণা ছাড়াই একটি ওয়েবসাইটে আসে। SEO এর উদ্দেশ্য এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সঠিক কী-ওয়ার্ড এবং কন্টেন্ট অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রকৃত দর্শক আনতে কাজ করে। পেইড অ্যাডের তুলনায় অর্গানিক ট্রাফিক দীর্ঘস্থায়ী এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে কার্যকর।
অর্গানিক ট্রাফিক অর্জনের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট তার শ্রোতাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে পারে, যা কেবলমাত্র সঠিক SEO পদ্ধতি ব্যবহার করে সম্ভব। এর মাধ্যমে দর্শকদের নির্দিষ্ট চাহিদা পূরণ হয় এবং তারা নিয়মিত সেই ওয়েবসাইটে ফিরে আসে। SEO এর উদ্দেশ্য কেবল দর্শক আনা নয়, বরং তাদের ওয়েবসাইটে ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করাও।
টার্গেট অডিয়েন্স পৌঁছানো
SEO এর উদ্দেশ্য সরাসরি টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানো, যাদের নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। কন্টেন্ট বা প্রোডাক্টকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা শুধুমাত্র সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় নয়, বরং তাদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর। সঠিক কী-ওয়ার্ড রিসার্চ এবং ব্যবহার করে টার্গেট দর্শকদের অনুসন্ধানের সাথে ওয়েবসাইটের তথ্য মিলে যায়। এর ফলে দর্শকরা সেই সাইটে ক্লিক করে এবং তাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আরও তথ্য অনুসন্ধান করে।
টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানোর ফলে একটি ব্র্যান্ড তার নির্দিষ্ট বাজারে পরিচিতি অর্জন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রযুক্তি ভিত্তিক কোম্পানি যদি SEO এর উদ্দেশ্য পূরণ করে সঠিক কৌশলে কাজ করে, তাহলে শুধুমাত্র প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে তার ব্র্যান্ডের পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ব্যবসা বা পরিষেবার জন্য এক নির্দিষ্ট গ্রাহকগোষ্ঠী তৈরি হয়।
সার্চ ইঞ্জিনে উচ্চ র্যাঙ্ক অর্জন
SEO এর উদ্দেশ্য হলো সার্চ ইঞ্জিনে উচ্চ র্যাঙ্ক অর্জন করা, যা যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম কয়েকটি ফলাফলে থাকা মানে বেশি ট্র্যাফিক পাওয়া, যা ব্যবসার জন্য প্রত্যক্ষ উপকার বয়ে আনে। সার্চ ইঞ্জিন র্যাঙ্ক বৃদ্ধির জন্য সঠিক টেকনিক যেমন কী-ওয়ার্ড ব্যবহার, ইন্টারনাল এবং এক্সটার্নাল লিংকিং, এবং অপটিমাইজড কন্টেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উচ্চ র্যাঙ্ক শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক বাড়ায় না বরং ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং পেশাদারিত্বও প্রদর্শন করে। একটি ওয়েবসাইট যদি সার্চ ইঞ্জিনে নিচের দিকে থাকে, তবে সেটি সহজে দর্শকদের নজরে আসে না। SEO এর উদ্দেশ্য হলো এমন একটি র্যাঙ্কিং সিস্টেম তৈরি করা, যা ওয়েবসাইটকে প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে রাখে।
ব্র্যান্ড পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি
SEO এর উদ্দেশ্য শুধু দর্শক আনাই নয়, ব্র্যান্ড পরিচিতি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোও। যখন একটি ব্র্যান্ড সার্চ ইঞ্জিনে উচ্চ র্যাঙ্কে থাকে, তখন দর্শকদের মনে সেই ব্র্যান্ড সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। তারা মনে করে, এই ব্র্যান্ড তাদের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এভাবে SEO কৌশল অনুসরণ করে কন্টেন্ট ও পরিষেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্র্যান্ডের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হয়।
বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড তৈরি করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, এবং SEO এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত কন্টেন্ট আপডেট, সঠিক লিংক বিল্ডিং, এবং কাস্টমাইজড কন্টেন্টের মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করা হয়। SEO এর উদ্দেশ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করা, যা ব্র্যান্ডকে কেবল জনপ্রিয় নয়, প্রতিযোগীদের মধ্যেও অন্যতম করে তোলে।
SEO এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সাফল্য
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঠিক দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করাই SEO এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এটি কেবল একটি ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বাড়ায় না, পাশাপাশি ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখে। সঠিক কৌশলের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান তার পণ্য ও সেবা সম্পর্কে কাস্টমারদের সামনে পৌঁছাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গুগলে সঠিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে শীর্ষ অবস্থানে থাকলে ব্যবসার প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে। “SEO এর উদ্দেশ্য” কেবল ট্রাফিক বাড়ানো নয়, বরং বিক্রির সম্ভাবনা বাড়ানো ও ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত করাও এর মূল লক্ষ্য।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি
SEO এর মাধ্যমে একটি ব্র্যান্ডকে জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব। এটি প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যাতে ক্রেতারা তা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিযোগীদের মধ্যে এগিয়ে থাকার জন্য SEO এর সঠিক প্রয়োগ প্রয়োজন। “SEO এর উদ্দেশ্য” হল কেবল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা নয়, বরং ব্র্যান্ডের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরিতে সাহায্য করা।
বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি
সঠিক কাস্টমারকে টার্গেট করা
SEO এর মূল উদ্দেশ্য হল এমন কাস্টমারদের কাছে পৌঁছানো যারা সুনির্দিষ্ট পণ্য বা সেবা খুঁজছেন। সঠিক কী-ওয়ার্ডের ব্যবহার, আকর্ষণীয় কন্টেন্ট, এবং অপ্টিমাইজড ওয়েবপেজের মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, যখন একটি প্রতিষ্ঠান “SEO এর উদ্দেশ্য” সঠিকভাবে প্রয়োগ করে, তখন তারা সম্ভাব্য ক্রেতাদের কার্যকরভাবে আকৃষ্ট করতে পারে। এর ফলে বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বাজারে পণ্য ও সেবার প্রচার সহজ করা
SEO এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়। গুগল অ্যালগরিদমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজ করলে পণ্য সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছায়। “SEO এর উদ্দেশ্য” কেবল ওয়েব ট্রাফিক বাড়ানো নয়, বরং তা থেকে কার্যকর লিড তৈরি করা। এর ফলে বিক্রয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।
কাস্টমার এনগেজমেন্ট উন্নত করা
ইন্টারেক্টিভ কন্টেন্ট এবং তথ্য সরবরাহ
SEO এর অন্যতম উদ্দেশ্য হল কাস্টমারদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা। এটি তখনই সম্ভব যখন একটি ওয়েবসাইট ইন্টারেক্টিভ কন্টেন্ট এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে। কাস্টমাইজড ব্লগ পোস্ট, FAQ সেকশন, এবং আকর্ষণীয় ভিডিওর মাধ্যমে কাস্টমারদের এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি পায়। “SEO এর উদ্দেশ্য” হল কাস্টমারদের প্রয়োজন মেটানো এবং তাদের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দেওয়া।
বিশ্বস্ততার সম্পর্ক তৈরি করা
কাস্টমার এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি করতে হলে কেবল পণ্য বিক্রি করাই যথেষ্ট নয়; বরং ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। SEO এই কাজটিকে সহজ করে তোলে, কারণ এটি কাস্টমারদের জন্য ওয়েবসাইটকে আরও ব্যবহারবান্ধব করে। “SEO এর উদ্দেশ্য” কাস্টমারদের আস্থা অর্জন এবং প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রথম পছন্দে পরিণত করা।
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এগিয়ে থাকা
বাজারে নিজস্ব অবস্থান সৃষ্টি করা
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে SEO একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হাতিয়ার। সঠিক কৌশল ও কী-ওয়ার্ডের ব্যবহার প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে রাখে। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রতিষ্ঠান যদি “SEO এর উদ্দেশ্য” বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের ব্র্যান্ড অনলাইনে আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতার মুখে টিকে থাকা সহজ হয়।
উন্নত কৌশল ও ডেটা ব্যবহার
SEO কেবল একটি ওয়েবসাইটকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার কৌশল নয়, বরং এটি বাজারের গতিপ্রকৃতি বোঝারও একটি মাধ্যম। সঠিক ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগীদের কার্যকলাপ সম্পর্কে ধারণা পায়। “SEO এর উদ্দেশ্য” হল প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা এবং ক্রেতাদের জন্য সেরা পছন্দ হওয়া।
সঠিকভাবে এসইও শিখতে হলে যা করতে হবে
SEO (Search Engine Optimization) শিখতে হলে শুরুতেই এর মৌলিক ধারণা সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এসইও মূলত সার্চ ইঞ্জিনের অ্যালগরিদম, কী-ওয়ার্ড অপটিমাইজেশন, কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি, এবং লিংক বিল্ডিংয়ের মতো বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে কাজ করে। তাই প্রথম ধাপে, এসইও-এর তাত্ত্বিক দিক সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য আপনি গুগল, ইউটিউব, বা বিখ্যাত এসইও ব্লগগুলো যেমন Moz, Ahrefs, এবং SEMrush থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এ ছাড়াও, এসইও-এর বিভিন্ন প্রকার যেমন টেকনিক্যাল এসইও, অন-পেজ এসইও, এবং অফ-পেজ এসইও এর গুরুত্ব ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে। সঠিকভাবে এসইও শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কী-ওয়ার্ড রিসার্চ শিখে নেওয়া এবং এটি ব্যবহার করার পদ্ধতি বোঝা। এ জন্য Google Keyword Planner এবং Ahrefs-এর মতো টুলস ব্যবহার করতে শিখতে হবে।
এসইও শিখতে হলে কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; এটি প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও শিখতে হবে। বাস্তব এসইও প্রজেক্টে কাজ করে শেখার মাধ্যমে আপনি কৌশলগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে এসইও কৌশল প্রয়োগ করা অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে আপনি কীভাবে ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক বৃদ্ধি করা যায়, কীভাবে সার্চ ইঞ্জিনে র্যাঙ্ক বাড়ানো যায়, তা হাতে-কলমে শিখতে পারবেন। এ ছাড়া, গুগল সার্চ কনসোল এবং গুগল অ্যানালিটিক্সের মতো টুলস ব্যবহার করতে শিখলে আপনি ওয়েবসাইটের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবেন। সঠিকভাবে এসইও শিখতে হলে ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি সর্বশেষ এসইও আপডেট ও ট্রেন্ড সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহার
আমরা একটি জিনিস নিশ্চিতভাবে বলতে পারি- ইন্টারনেটের প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায়, SEO ছাড়া সামনে এগোনো প্রায় অসম্ভব। SEO এর উদ্দেশ্য কি কেবল একটি ওয়েবসাইটকে টপ-র্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে যাওয়াই? না! এটি ব্যবহারকারীর জন্য একটি উন্নত এবং এবং স্মুথ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাও বটে।
এটিকে আপনি একটি সেতুর সাথেও তুলনা করতে পারেন। কেননা এটি ব্যবসায়ী এবং গ্রাহকের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। এটি এমন একটি হাতিয়ার যা ছোট ব্যবসাগুলিকে বড় প্রতিযোগীদের সাথে লড়াই করার সুযোগ দেয়। সর্বোপরি, SEO শুধু একটি টেকনিক নয়; এটি এমন একটি টেকনিকাল ব্যবস্থা যা বলে দেয়, আপনি কি সঠিকভাবে আপনার শ্রোতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন কি না!
সুতরাং, যদি আপনি এখনও আপনার ওয়েবসাইটকে অপ্টিমাইজ করার বিষয়ে দ্বিধায় থাকেন, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। কারণ ডিজিটালের এই দুনিয়ায় আপনার অস্তিত্বের মূলমন্ত্রই হল- SEO বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন।