ডায়াবেটিস কত প্রকার ও কী কী? টাইপ ১, টাইপ ২ ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস কত প্রকার ও কী কী—সাধারণভাবে প্রশ্নটির উত্তর দিতে টাইপ ১, টাইপ ২ এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কথা বলা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আরও কিছু নির্দিষ্ট ও বিরল ধরন আছে, যেমন একক জিনের পরিবর্তনজনিত ডায়াবেটিস, অগ্ন্যাশয়ের রোগের কারণে ডায়াবেটিস এবং কিছু ওষুধে সৃষ্ট ডায়াবেটিস। সব ধরনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো রক্তে গ্লুকোজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকা; কিন্তু কারণ, রোগের গতি এবং চিকিৎসা এক নয়।

ডায়াবেটিসের ধরন সঠিকভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। টাইপ ১-এ প্রতিদিন ইনসুলিন ছাড়া জীবন বিপন্ন হতে পারে, টাইপ ২-এ জীবনযাপন ও বিভিন্ন ওষুধের সমন্বয় লাগে, আর গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে মা ও শিশুর নিরাপত্তার জন্য আলাদা লক্ষ্য ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। শুধু বয়স, ওজন বা একটি গ্লুকোজ রিপোর্ট দেখে ধরন নিশ্চিত করা যায় না।

গুরুত্বপূর্ণ: এই লেখা স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য, ব্যক্তিগত রোগনির্ণয় বা প্রেসক্রিপশন নয়। অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, দ্রুত ওজন কমা, বমি, পেটব্যথা, গভীর শ্বাস বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসক বা জরুরি বিভাগের সহায়তা নিন।

Table of Contents

ডায়াবেটিসে শরীরের ভেতরে কী ঘটে?

খাবারের কার্বোহাইড্রেট হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে তৈরি ইনসুলিন হরমোন পেশি, যকৃৎ ও চর্বির কোষকে গ্লুকোজ গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে। ইনসুলিন একেবারেই না থাকলে, কম তৈরি হলে বা কোষ ইনসুলিনে যথাযথ সাড়া না দিলে রক্তে গ্লুকোজ জমে। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত গ্লুকোজ চোখ, কিডনি, স্নায়ু, হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে।

এই একই ফল ভিন্ন পথে হতে পারে। টাইপ ১-এ ইনসুলিন তৈরির কোষ অটোইমিউন আক্রমণে নষ্ট হয়। টাইপ ২-এ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং ধীরে ধীরে বিটা কোষের সক্ষমতা কমে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে গর্ভাবস্থার হরমোন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমায় এবং অগ্ন্যাশয় বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে না পারলে গ্লুকোজ বাড়ে।

১. টাইপ ১ ডায়াবেটিস কী?

টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন রোগ। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন-উৎপাদক বিটা কোষ ধ্বংস করে। ফলে শরীর খুব কম বা একেবারেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। এটি শিশু-কিশোরে বেশি পরিচিত হলেও যেকোনো বয়সে শুরু হতে পারে। বেশি মিষ্টি খাওয়া, অলসতা বা অতিরিক্ত ওজন টাইপ ১-এর কারণ নয়।

টাইপ ১-এর লক্ষণ

লক্ষণ সাধারণত কয়েক দিন বা সপ্তাহে দ্রুত দেখা দেয়। বারবার প্রস্রাব, প্রচণ্ড পিপাসা, বেশি ক্ষুধা সত্ত্বেও ওজন কমা, ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা এবং শিশুর আবার বিছানা ভেজানো উল্লেখযোগ্য সংকেত। বমি, পেটব্যথা, ফলের গন্ধের মতো নিঃশ্বাস, দ্রুত বা গভীর শ্বাস, প্রচণ্ড দুর্বলতা ও বিভ্রান্তি ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস বা DKA নির্দেশ করতে পারে—এটি জরুরি অবস্থা।

টাইপ ১-এর চিকিৎসা

টাইপ ১ রোগীর প্রতিদিন ইনসুলিন প্রয়োজন। ইনসুলিন ইনজেকশন বা পাম্পে দেওয়া যায়; ধরন, ডোজ ও সময় ব্যক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। খাবারের কার্বোহাইড্রেট, শারীরিক কার্যকলাপ, অসুস্থতা ও গ্লুকোজের সঙ্গে ইনসুলিন সমন্বয় শিখতে ডায়াবেটিস শিক্ষা জরুরি। গ্লুকোমিটার বা continuous glucose monitor (CGM), হাইপোগ্লাইসেমিয়ার প্রস্তুতি, কিটোন পরীক্ষা এবং নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসার অংশ। ইনসুলিন বন্ধ করা বিপজ্জনক।

২. টাইপ ২ ডায়াবেটিস কী?

টাইপ ২ সবচেয়ে প্রচলিত ধরন। এতে প্রথমে পেশি, যকৃৎ ও চর্বির কোষ ইনসুলিনে কম সাড়া দেয়—এটিই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। অগ্ন্যাশয় বাড়তি ইনসুলিন তৈরি করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে; সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তৈরি করতে না পারলে রক্তে গ্লুকোজ বাড়ে। জিনগত প্রবণতা, বয়স, অতিরিক্ত পেটের চর্বি, কম শারীরিক কার্যকলাপ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস, PCOS, উচ্চ রক্তচাপ ও প্রিডায়াবেটিস ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।

টাইপ ২ কেবল অতিরিক্ত ওজনের বা বয়স্ক মানুষের হয়—এ ধারণা ভুল। স্বাভাবিক ওজনের ব্যক্তি, কিশোর বা তরুণেরও রোগটি হতে পারে। দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীতে তুলনামূলক কম BMI-তেও বিপাকীয় ঝুঁকি থাকতে পারে।

টাইপ ২-এর লক্ষণ

লক্ষণ ধীরে, কয়েক বছর ধরে তৈরি হতে পারে বা একেবারেই নাও থাকতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাব, তৃষ্ণা, ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা, ক্ষত শুকাতে দেরি, বারবার সংক্রমণ, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি এবং ত্বকের ভাঁজে কালচে মোটা দাগ হতে পারে। অনেকের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রথম ধরা পড়ে।

টাইপ ২-এর চিকিৎসা

ব্যক্তিকেন্দ্রিক খাদ্যপরিকল্পনা, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম, ধূমপান বর্জন এবং প্রয়োজন হলে ওজন ব্যবস্থাপনা ভিত্তি তৈরি করে। পাশাপাশি মেটফরমিন বা অন্যান্য ট্যাবলেট, GLP-1 receptor agonist, SGLT2 inhibitorসহ বিভিন্ন ওষুধ কিংবা ইনসুলিন প্রয়োজন হতে পারে। হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ, ওজন, হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও খরচ বিবেচনায় চিকিৎসক ওষুধ বেছে নেন। ইনসুলিন লাগা মানে রোগী ব্যর্থ হয়েছেন—এ ধারণা ভুল।

৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কী?

গর্ভাবস্থায় প্রথম শনাক্ত হওয়া উচ্চ রক্তশর্করাকে সাধারণভাবে gestational diabetes বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভফুল থেকে তৈরি কিছু হরমোন ইনসুলিনের কাজ কমিয়ে দেয়। অধিকাংশ গর্ভবতীর অগ্ন্যাশয় বেশি ইনসুলিন তৈরি করে মানিয়ে নেয়; যাঁদের শরীর এই বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে পারে না, তাঁদের গ্লুকোজ বেড়ে যায়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তাই সাধারণত গর্ভাবস্থার ২৪–২৮ সপ্তাহের মধ্যে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়; উচ্চ ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক আরও আগে পরীক্ষা দিতে পারেন। পরীক্ষার পদ্ধতি ও নির্ণয়ের সীমা দেশ বা ক্লিনিকের প্রোটোকল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

মা ও শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকি

নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শিশুর অতিরিক্ত বৃদ্ধি, জন্মের সময় জটিলতা, নবজাতকের কম গ্লুকোজ, প্রিক্ল্যাম্পসিয়া ও সিজারিয়ান প্রসবের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এই শব্দগুলো ভয় তৈরির জন্য নয়; সময়মতো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে অধিকাংশ মা সুস্থ সন্তান জন্ম দেন।

চিকিৎসা ও প্রসব-পরবর্তী ফলোআপ

নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের পরিকল্পনা, নিরাপদ শারীরিক কার্যকলাপ ও নিয়মিত গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণ প্রথম ধাপ। লক্ষ্য অর্জন না হলে ইনসুলিন বা চিকিৎসকের নির্বাচিত অন্য চিকিৎসা লাগতে পারে। গর্ভাবস্থায় ওষুধের সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রসূতি ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা দলের।

প্রসবের পর অনেকের গ্লুকোজ স্বাভাবিক হয়, কিন্তু ভবিষ্যতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে। তাই সাধারণত প্রসবের ৪–১২ সপ্তাহ পর পরীক্ষা এবং ফল অনুযায়ী প্রতি এক থেকে তিন বছরে স্ক্রিনিং সুপারিশ করা হয়। সুনির্দিষ্ট সময় চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

তিন ধরনের ডায়াবেটিসের তুলনা

বৈশিষ্ট্যটাইপ ১টাইপ ২গর্ভকালীন
মূল প্রক্রিয়াঅটোইমিউন বিটা কোষ ধ্বংসইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ইনসুলিন উৎপাদন কমাগর্ভাবস্থার হরমোনজনিত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
শুরুসাধারণত দ্রুত, যেকোনো বয়সেসাধারণত ধীরে, যেকোনো বয়সেগর্ভাবস্থায়
লক্ষণপ্রায়ই স্পষ্ট ও দ্রুতমৃদু বা অনুপস্থিত হতে পারেসাধারণত উপসর্গহীন
ইনসুলিনজীবনরক্ষাকারী ও অপরিহার্যকারও লাগে, কারও অন্যান্য ওষুধে নিয়ন্ত্রণ হয়লক্ষ্য পূরণ না হলে লাগতে পারে
প্রতিরোধসাধারণ নিশ্চিত উপায় নেইঅনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানো বা বিলম্বিত করা যায়সব ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব নয়; ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহায়ক

প্রিডায়াবেটিস কি আলাদা ধরন?

প্রিডায়াবেটিসে গ্লুকোজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিন্তু টাইপ ২ ডায়াবেটিসের নির্ণয়-সীমায় নয়। HbA1c ৫.৭%–৬.৪%, খালি পেটে প্লাজমা গ্লুকোজ ১০০–১২৫ mg/dL বা ৭৫ গ্রাম OGTT-এর দুই ঘণ্টা পর ১৪০–১৯৯ mg/dL সাধারণ সীমা। এটি ডায়াবেটিসের আলাদা “টাইপ” নয়, বরং উচ্চ ঝুঁকির অবস্থা। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও প্রয়োজনমতো চিকিৎসায় টাইপ ২-এর অগ্রগতি কমানো যায়।

অন্যান্য নির্দিষ্ট ধরনের ডায়াবেটিস

একক জিনের পরিবর্তনজনিত ডায়াবেটিস

Neonatal diabetes ও MODY-এর মতো কিছু বিরল ডায়াবেটিস একক জিনের পরিবর্তনে হয়। অল্প বয়সে রোগ, প্রজন্ম ধরে পরিবারের বহু সদস্য আক্রান্ত বা টাইপ ১-এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য না থাকলে বিশেষজ্ঞ এ সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারেন। সঠিক জেনেটিক নির্ণয়ে চিকিৎসা বদলাতে পারে।

অগ্ন্যাশয়ের রোগজনিত ডায়াবেটিস

দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, অগ্ন্যাশয়ের অস্ত্রোপচার বা কিছু টিউমারে ইনসুলিন ও হজমের এনজাইম তৈরির ক্ষমতা কমতে পারে। একে কখনও pancreatogenic বা type 3c diabetes বলা হয়। চিকিৎসায় গ্লুকোজের পাশাপাশি পুষ্টি ও হজমের বিষয়ও বিবেচিত হয়।

ওষুধ বা হরমোনজনিত ডায়াবেটিস

গ্লুকোকর্টিকয়েড বা স্টেরয়েড, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ও অন্যান্য ওষুধ গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। কুশিং সিনড্রোম বা অ্যাক্রোমেগালির মতো হরমোনজনিত রোগেও হতে পারে। সন্দেহ হলেও ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করা যাবে না; চিকিৎসক ঝুঁকি ও বিকল্প মূল্যায়ন করবেন।

ডায়াবেটিসের ধরন কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

HbA1c, fasting plasma glucose, OGTT বা উপসর্গসহ random plasma glucose ডায়াবেটিস নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু এগুলো সব সময় ধরন বলে না। চিকিৎসক বয়স, লক্ষণের গতি, ওজন, পারিবারিক ইতিহাস, গর্ভাবস্থা, কিটোন ও চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া দেখেন। টাইপ ১ সন্দেহে pancreatic autoantibody এবং শরীর কত ইনসুলিন তৈরি করছে তা বোঝাতে C-peptide পরীক্ষা ব্যবহার হতে পারে। বিরল ধরনে জেনেটিক বা অগ্ন্যাশয়ের পরীক্ষা লাগতে পারে।

রোগ নির্ণয়ের জন্য সাধারণত মানসম্মত ল্যাব পরীক্ষা দরকার। সুস্পষ্ট হাইপারগ্লাইসেমিক সংকট না থাকলে একটি অস্বাভাবিক ফল দ্বিতীয় পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চিত করা হয়। HbA1c কিছু অ্যানিমিয়া, হিমোগ্লোবিনের ভিন্নতা, সাম্প্রতিক রক্তক্ষরণ বা ট্রান্সফিউশন, কিডনি রোগ এবং গর্ভাবস্থায় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তাই রিপোর্টের সংখ্যাকে আলাদা করে না দেখে চিকিৎসক ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করেন।

বয়স্ক মানেই টাইপ ২ এবং শিশু মানেই টাইপ ১—এই শর্টকাট ভুল। ভুল শ্রেণিবিন্যাসে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন দেরি হতে পারে বা অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হতে পারে। সন্দেহ থাকলে এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের মূল্যায়ন যুক্তিযুক্ত।

বাস্তবধর্মী উদাহরণ

ধরা যাক, ২৭ বছর বয়সী সাবিনার প্রচণ্ড পিপাসা, ঘন প্রস্রাব ও এক মাসে দ্রুত ওজন কমে। তাঁর গ্লুকোজ খুব বেশি এবং কিটোন পাওয়া যায়। বয়স দেখে টাইপ ২ ধরে নেওয়ার বদলে চিকিৎসক অটোঅ্যান্টিবডি ও C-peptideসহ মূল্যায়ন করেন এবং টাইপ ১ নিশ্চিত করেন; দ্রুত ইনসুলিন শুরু হয়। অন্যদিকে তাঁর ৫২ বছর বয়সী চাচার বহুদিন লক্ষণ ছিল না, নিয়মিত পরীক্ষায় টাইপ ২ ধরা পড়ে। সাবিনার গর্ভবতী বোনের ২৬ সপ্তাহে গ্লুকোজ টলারেন্স পরীক্ষায় গর্ভকালীন ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়। তিনজনের রক্তশর্করা বেশি হলেও চিকিৎসা এক নয়—এই উদাহরণ ধরন নির্ধারণের গুরুত্ব বোঝায়।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ডায়াবেটিসের প্রধান ধরন কয়টি?

প্রধান তিনটি হলো টাইপ ১, টাইপ ২ ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। আরও কিছু নির্দিষ্ট ও বিরল ধরন আছে।

টাইপ ১ কি পরে টাইপ ২ হয়ে যায়?

না। দুটির মূল প্রক্রিয়া আলাদা। তবে টাইপ ১ রোগীর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও হতে পারে, যা চিকিৎসা জটিল করতে পারে।

টাইপ ২ হলে কি কখনো ইনসুলিন লাগে না?

অনেকের সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি ইনসুলিন প্রয়োজন হয়। এটি রোগের স্বাভাবিক অগ্রগতি বা বিশেষ পরিস্থিতির অংশ, ব্যর্থতা নয়।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কি প্রসবের পর শেষ হয়?

অনেকের গ্লুকোজ স্বাভাবিক হয়, কিন্তু ভবিষ্যতে টাইপ ২-এর ঝুঁকি থাকে। প্রসব-পরবর্তী ও নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি।

গ্লুকোমিটার দিয়ে ধরন জানা যায়?

না। গ্লুকোমিটার মাত্রা দেখায়; ধরন নির্ধারণে ইতিহাস, পরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন লাগে।

সব ডায়াবেটিস কি খাবার ও ব্যায়ামে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

না। টাইপ ১-এ ইনসুলিন অপরিহার্য। টাইপ ২ ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিসেও প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন লাগে।

সারসংক্ষেপ

টাইপ ১ অটোইমিউন ইনসুলিন-ঘাটতির রোগ, টাইপ ২ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ধীরে ইনসুলিন উৎপাদন কমার ফল, আর গর্ভকালীন ডায়াবেটিস গর্ভাবস্থায় তৈরি হয়। একই উচ্চ গ্লুকোজের পেছনে ভিন্ন কারণ থাকায় সঠিক ধরন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসাই নিরাপত্তার ভিত্তি।

তথ্যসূত্র

মন্তব্য করুন